Press Release Day-7

M-Moniruzzaman

বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব

ভারতের শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্যরে গানে বিমুগ্ধ শ্রোতারা

ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্যরে গানে মাতলেন সিলেটবাসী। শিল্পীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে তাঁরা উপভোগ করলেন পুরো সময়টুকু। নগরের মাছিমপুর এলাকার আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবের সপ্তম দিনে এসে এমন দৃশ্যের অবতারণা হলো। প্রখ্যাত এ শিল্পীর পরিবেশনা ছাড়াও গতকাল মঙ্গলবার ছিল আরও নানা আয়োজন।


মো.মনিরুজ্জামানের বাঁশিবাদন

বরাবরের মতো বেলা চারটায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ মঞ্চে পরপর ‘দিপু নাম্বার টু, আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ ও গেরিলা’ চলচ্চিত্র তিনটি প্রদর্শিত হয়। সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে বংশিবাদক মো. মনিরুজ্জামানের বাঁশিবাদনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়। তাঁর বাঁশির মোহনীয় সুরে আবিষ্ট হন শ্রোতারা। তাঁর পরিবেশনার জাদুতে মাঠে পিনপিতন নীরবতা বিরাজ করে। উপস্থিত দর্শনার্থীরা তন্ময় হয়ে উপভোগ করেন তাঁর বাঁশি বাদন। এরপরই ভজন ও কীর্তন গেয়ে শোনান বিশিষ্ট শিল্পী শারমিন সাথি ইসলাম ও বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি। তাঁদের পরিবেশনার পর মঞ্চে ওঠেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী শামা রহমান।


মো.মনিরুজ্জামানের বাঁশিবাদন

সবশেষে মঞ্চে আসেন ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্য। তিনি একে একে গেয়ে শোনান তাঁর জনপ্রিয় সব গান। শ্রীকান্তের গানে বিমুগ্ধ হন শ্রোতা-দর্শনার্থীরা। এদিকে শাহ আবদুল করিম চত্বরে বাদ্যযন্ত্র ও সিলেট অঞ্চলের লোকগানের ইতিহাস নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী দেখতে ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। এ চত্বরে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন লোকসাধকদের জীবনতথ্যাদি উপস্থাপনের পাশাপাশি লোকগানের ইতিহাস ও ক্রমবিকাশও স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন নদীর আলোকচিত্র এবং বাদ্যযন্ত্রের পরিচিতিসহ আলোকচিত্র প্রদর্শনীটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। অনান্য দিনের মতো গতকালও ‘আগামীর সিলেট’ শীর্ষক স্থাপত্য প্রদর্শনী ঘিরে ছিল আগ্রহীদের ভিড়। দর্শনার্থীরা গান শোনার পাশাপাশি বাংলার মিষ্টি এবং ফুডকোর্ট চত্বর ঘিরে ভিড় জমিয়েছেন, কারণ সেখানে নানা অঞ্চলের বিশেষ ধরনের খাবারের  স্টল রয়েছে।


উপস্থিত সম্মানিত র্দশক

আজকের পরিবেশনা : সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে বেলা চারটা থেকে যথাক্রমে ‘আমার বন্ধু রাশেদ’, ‘রানওয়ে’ ও ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্র তিনটি প্রদর্শিত হবে। এরপর সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে হাসন রাজা মঞ্চে মণিপুরী নৃত্য অ্যাকাডেমি ফর মণিপুরি কালচার অ্যান্ড আর্টসের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করবেন। পরেই রাগাশ্রয়ী গান পরিবেশন করবেন প্রিয়াংকা গোপ। এ পরিবেশনার পর রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করবেন বুলবুল ইসলাম। সবশেষে ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী জয়তী চক্রবর্তী পরিবেশন করবেন রবীন্দ্রসংগীত ও আধুনিক গান।


মো.মনিরুজ্জামানের বাঁশিবাদন

উল্লেখ্য, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী এ উৎসব চলবে ৩ মার্চ পর্যন্ত। পুরো উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাককে। ইনডেক্স গ্রুপ নিবেদিত এ উৎসবের সহযোগিতায় রয়েছে ঢাকা ব্যাংক। সম্প্রচার সহযোগী চ্যানেল আই। প্রতিদিনই কয়েকটি মঞ্চে অনুষ্ঠান হবে। মূল অনুষ্ঠান হবে সৈয়দ মুজতবা আলী এবং হাসন রাজা মঞ্চে। এ ছাড়া প্রথম দিন থেকেই শাহ আবদুল করিম চত্বরে বাদ্যযন্ত্র ও সিলেট অঞ্চলের লোকগানের ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী; গুরুসদয় দত্ত চত্বরে কারুমেলা ও বেঙ্গল প্যাভিলিয়ন এবং কুশিয়ারা কলোনেডে স্থাপত্য প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। রাধারমণ দত্ত বেদিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সুবীর চৌধুরী আর্ট ক্যাম্প।