Press Release Day-4

Stage-play-Amina-Sundari

সিলেটে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব

তিন দেশের সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত সাহিত্য সম্মেলন

সিলেটে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবে গতকাল শনিবার বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল এই তিন দেশের লেখক-সাহিত্যিক- চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর থেকে ছিল সাংস্কৃতিক নানা আয়োজন এবং মঞ্চনাটকের প্রদর্শনী। নগরের মাছিমপুর এলাকার আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবের গতকাল ছিল চতুর্থ দিন।


বাম থেকে: মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সুব্রত-বড়ুয়া, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, আবুল মোমেন, প্রশান্ত মৃধা।

সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে ‘কালি ও কলম’ সাহিত্য পত্রিকার উদ্যোগে দ্বিতীয় দিনের মতো সাহিত্য সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনের শুরুতেই ছিল সৈয়দ শামসুল হক স্মারক অধিবেশন। এ অধিবেশনের শিরোনাম ছিল‘ষাটের দশক : তখনকার গল্প এখনকার স্মৃতি’। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেশের জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এই অধিবেশনের মূল বক্তা ছিলেন ষাটের দশকের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত। আলোচকের বক্তব্য দেন বিশিষ্ট লেখক সুব্রত-বড়ুয়া, প্রাবন্ধিক আবুল মোমেন ও কথাসাহিত্যিক প্রশান্ত মৃধা। এরপর ‘কবিতার ভুবনে বিরোধাভাস’ শীর্ষক অধিবেশন শুরু হয়। এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন  সাহিত্যসমালোচক ও অনুবাদক কায়সার হক। আলোচকের বক্তব্য দেন ভারতের বিশিষ্ট গবেষক গঙ্গাপ্রসাদ বিমল, প্রাবন্ধিক আবুল মোমেন ও কলকাতার কবি মন্দাক্রান্তা সেন।


বাম থেকে: শাঁওলী মিত্র, লেখিকা ফৌজিয়া খান, প্রখ্যাত নাট্যাভিনেতা মামুনুর রশীদ, লেখক জাকির হোসেন রাজু, লেখক অংশুমান ভৌমিক, কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক ও কবি আনিসুল হক।

এই দুই অধিবেশনের পর ‘অন্য দেশে অন্য জীবন প্রবাসচিত্র’ শীর্ষক অধিবেশনে অনুবাদক কায়সার হকের সভাপতিত্বে মূল বক্তার বক্তব্য দেন ভারতের বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক অমিয় দেব। আলোচকের বক্তব্য দেন ভারতের বিশিষ্ট লেখক আশিস সান্যাল, গীতিকার শতরূপা সান্যাল ও নেপালের বিশিষ্ট গল্পকার মহেশ পদওয়াল। এরপর ‘সাহিত্য থেকে মঞ্চ ও চলচ্চিত্রে সংযোজন এবং পরিক্রমা’ শীর্ষক অধিবেশন শুরু হয়। এতে মূল বক্তব্য দেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির সভাপতি শাঁওলী মিত্র। বাংলাদেশেরে প্রখ্যাত নাট্যাভিনেতা মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে আলোচকের বক্তব্য দেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক ও কবি আনিসুল হক, ভারতের লেখক অংশুমান ভৌমিক, বাংলাদেশের লেখিকা ফৌজিয়া খান ও লেখক জাকির হোসেন রাজু। এ অধিবেশনে মূল বক্তার বক্তব্যে শাঁওলী মিত্র বলেন, ‘নাটক এবং নাট্য দুটো জায়গাতেই বেশ তফাৎ রয়েছে। নাটক কোনো অর্থেই সাহিত্যের থেকে আলাদা বিষয় নয়। তবে বিকৃতির সাহায্য নিয়ে যে শিল্পমাধ্যম গড়ে ওঠে, তা কখনো সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পায় না।’ তিনি এ সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজা’ ও‘রক্তকরবী’ নাটক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, অনেক নাট্যনির্মাতারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটককে আধুনিক করতে গিয়ে বিকৃতি করে ফেলেছেন। এটি একেবারেই অনায্য ও অগ্রহণযোগ্য।


বাম থেকে: গণেশ হালুই, ঢালী আল মামুন, সুশোভন অধিকারী, রফিকুন নবী, আবুল মনসুর।

‘আজকের শিল্পভাষা আর্ট, পারফরম্যান্স ও কবিতার নির্মাণ’ শীর্ষক অধিবেশনে সমকালীন ভারতীয় চিত্রকলার জগতে বিশিষ্ট শিল্পী গণেশ হালুইয়ের সভাপতিত্বে মূল বক্তার বক্তব্য দেন ভারতের চিত্রকলাবিষয়ক লেখক সুশোভন অধিকারী। আলোচকের বক্তব্য দেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী, ঢালী আল মামুন ও শিল্পতাত্ত্বিক আবুল মনসুর। সমাপণী অধিবেশনের শিরোনাম ছিল ‘লোকসাহিত্য’। এ পর্বে মূল বক্তার বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খান। কবি আসাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচকের বক্তব্য দেন গবেষক আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, লোকসংস্কৃতি গবেষক-নাট্যকার সাইমন জাকারিয়া ও গবেষক-প্রাবন্ধিক সুমনকুমার দাশ।


মঞ্চনাটক: ‘আমিনা সুন্দরী’

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় হাসন রাজা মঞ্চে আতাউর রহমান মিন্টু ও তাঁর দলের সদস্যরা গম্ভীরা পরিবেশন করেন। এরপর সেকালের বাংলা গান পরিবেশন করেন শিল্পী ইফাত আরা দেওয়ান। এরপরই নজরুলসংগীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল গান পরিবেশন করেন। সবশেষে শিল্পী লাবিক কামাল গৌরব, নবনীতা চৌধুরী ও বেবি দেওয়ান লোকগান পরিবেশন করেন। সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে মঞ্চনাটক ‘আমিনা সুন্দরী’ মঞ্চায়ন করেছে ঢাকার থিয়েটার আর্ট ইউনিট। নাট্যকার এস এম সোলায়মানের রচিত এ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন রোকেয়া রফিক বেবী। চট্টগ্রামের অমর লোককাহিনি নছর মালুম ও ভেলুয়া সুন্দরী অবলম্বনে এ নাটকটি রচিত হয়েছে।


শিল্পী:ইফাত আরা দেওয়ান।

আজকের পরিবেশনা : বেলা ১১টা ২৫ মিনিট থেকে সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে তৃতীয় দিনের মতো ‘কালি ও কলম সাহিত্য সম্মেলন’ শুরু হবে। সম্মেলনের শেষ দিনে রয়েছে তিন পর্বে কবিতাপাঠের অধিবেশন। এ তিনটি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন যথাক্রমে কবি রুবী রহমান, আসাদ চৌধুরী ও রবিউল হুসাইন। এ ছাড়া কবি টোকন ঠাকুর, তারিক সুজাত, শিউল মনজুর, সাকিরা পারভীন, শাহনাজ নাসরিন, আশিস স্যানাল, শতরূপা সান্যাল, রাতুল দেববর্মণ, কৃষ্ণ প্রাসাই, বীথি চট্টোপাধ্যায়, রুবী রহমান, পিয়াস মজিদ, ওবায়েদ আকাশ, মুহাম্মদ সামাদ, শিহাব সরকার, মোস্তাক আহমাদ দীন, মারুফুল ইসলাম, জফির সেতু, হেনরী স্বপন, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, আসমা বিথী, আসাদ চৌধুরী, আলতাফ হোসেন, আহমেদ মুনির, আবুল মোমেন, রবিউল হুসাইন, ইকবাল হাসান, শুভাশিস সিনহা, মন্দাক্রান্তা সেন, সৈয়দ মো. আবু দাউদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।


মঞ্চনাটক: ‘আমিনা সুন্দরী’

সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে হাসন রাজা মঞ্চে নীলাঞ্জনা দাশের পরিচালনায় নৃত্যানুষ্ঠান ‘দ্রোহকাল’ মঞ্চায়িত হবে। এরপর সরোদ বাদন করবেন রাজরূপা চৌধুরী এবং রবীন্দ্রসংগীত ও তিন কবির গান পরিবেশন করবেন শিল্পী লাইসা আহমদ লিসা। সবশেষে পালাগান পরিবেশন করবেন কুদ্দুস বয়াতি।


শিল্পী:ইফাত আরা দেওয়ান।

উল্লেখ্য, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী এ উৎসব চলবে ৩ মার্চ পর্যন্ত। পুরো উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাককে। ইনডেক্স গ্রুপ নিবেদিত এ উৎসবের সহযোগিতায় রয়েছে ঢাকা ব্যাংক। সম্প্রচার সহযোগী চ্যানেল আই। প্রতিদিনই কয়েকটি মঞ্চে অনুষ্ঠান হবে। মূল অনুষ্ঠান হবে সৈয়দ মুজতবা আলী এবং হাসন রাজা মঞ্চে। এ ছাড়া প্রথম দিন থেকেই শাহ আবদুল করিম চত্বরে বাদ্যযন্ত্র ও সিলেট অঞ্চলের লোকগানের ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী; গুরুসদয় দত্ত চত্বরে কারুমেলা ও বেঙ্গল প্যাভিলিয়ন এবং কুশিয়ারা কলোনেডে স্থাপত্য প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।রাধারমণ দত্ত বেদিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সুবীর চৌধুরী আর্ট ক্যাম্প।