Press Release Day-3

Inam-Ahmed-Chowdhury,-Hasanul-Haq-Inu,-Harshavardhana-Srinla,-Abul-Khair

সিলেটে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব

তৃতীয় দিনে সাহিত্যে সম্মেলনে দুই দেশের লেখকদের মিলনমেলা

মানবিক সাধনায় বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবের গতকাল শুক্রবার ছিল তৃতীয় দিন। এ দিন সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে ‘কালি ও কলম’ সাহিত্য পত্রিকার উদ্যোগে আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলনের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। সম্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারতের কবি-কথাসাহিত্যিক-গবেষক-প্রাবন্ধিকেরা উপস্থিত ছিলেন। সাহিত্যের এ আয়োজনে দুই দেশের লেখকদের কথা শুনতে আগ্রহী দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষ্যণীয়।

সিলেট নগরের মাছিমপুর এলাকার আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশের বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, ভারতের প্রাবন্ধিক অমিয় দেব, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শাঁওলী মিত্র এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রাবন্ধিক বেগম আকতার কামাল। সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন ‘কালি ও কলম’ সম্পাদক আবুল হাসনাত।


বাম থেকে:ইনাম আহমেদ চৌধুরী, হাসানুল হক ইনু, হর্ষবর্ধন শ্রীংলা, আবুল খায়ের

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপর ‘সমকালীন বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কবি আসাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওই অধিবেশনে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক মূল বক্তার বক্তব্য রাখেন। আলোচক ছিলেন কলকাতার লেখক অনিতা অগ্নিহোত্রী ও বাংলাদেশের লেখক-প্রাবন্ধিক-অনুবাদক সুরেশরঞ্জন বসাক। এরপরই ‘সমাজবাস্তবতা ও বাংলাদেশের সাহিত্য’ শীর্ষক অধিবেশনের মূল বক্তা ছিলেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল। ভারতের বিশিষ্ট সাহিত্যিক অমিয় দেব এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন। আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গবেষক-প্রাবন্ধিক বিশ্বজিৎ ঘোষ ও কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল। এরপর ‘সাহিত্যে ঐতিহ্যচেতনা ও স্বরূপসন্ধান’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিশিষ্ট কবি-প্রাবন্ধিক ড. তপোধীর ভট্টাচার্য। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক সনৎকুমার সাহা এবং আলোচক ছিলেন কবি-অনুবাদক-প্রবান্ধিক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান ও ভারতের গবেষক সৌমেন ভারতীয়া।


তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

এরপর ‘সাহিত্যে নারীজীবন’ শীর্ষক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ওয়াসি আহমেদ। মূল বক্তা ছিলেন কবি রুবী রহমান। আলোচকের বক্তব্য দেন কলকাতার কবি মন্দাক্রান্তা সেন, লেখক অশোক মুখোপাধ্যায় ও কথাসাহিত্যিক শাহীন আখতার।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় হাসন রাজা মঞ্চে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বেঙ্গল সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা আয়োজন করে দেশবাসীকে ঋণী করে ফেলেছে। ঢাকার মতো সিলেটেও জাতীয় মানের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করায় তাঁদেরকে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রত্যেক জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা

বক্তৃতায় আবুল খায়ের বলেন, ‘বাংলা সংস্কৃতির সব প্রচলিত ধারাকে আমরা একত্রে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা করছি। আমাদের এ আয়োজন সিলেটবাসীর কাছে ভালো লাগলে, আমাদের আয়োজন সার্থক বলে মনে করব।’ আলোচনার পরপর শুরু হয় গানের অনুষ্ঠান। শুরুতেই রাগাশ্রয়ী বাংলা গান পরিবেশন করেন শিল্পী বর্ণালী চট্টোপাধ্যায়। এরপর নজরুল সংগীত ও সেকালের বাংলা গান পরিবেশন করেন এই সিলেটের কৃতিসন্তান এবং দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। এরপর গান পরিবেশন করেন শিল্পী ঝুমা খন্দকার। সবশেষে সংগীতশিল্পী কৃষ্ণকলি ও তাঁর দলের সদস্যরা জীবনমুখী বাংলা গান পরিবেশন করেন।

প্রাবন্ধিক ড. তপোধীর ভট্টাচার্য

আজকের পরিবেশনা :
সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘কালি ও কলম সাহিত্য সম্মেলন’ শুরু হবে। আজ সম্মেলনে ‘ষাটের দশক : তখনকার গল্প এখনকার স্মৃতি’, ‘কবিতার ভুবনে বিরোধাভাস’, ‘অন্য দেশে অন্য জীবন প্রবাসচিত্র’, ‘সাহিত্য থেকে মঞ্চ ও চলচ্চিত্রে সংযোজন এবং পরিক্রমা এবং ‘লোকসাহিত্য’ শীর্ষক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।


প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী

এসব অধিবেশনে বাংলাদেশের লেখকদের মধ্যে শামসুজ্জামান খান, আসাদ চৌধুরী, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সুব্রত বড়–য়া, আবুল মোমেন, আনিসুল হক, মামুনুর রশীদ, কায়সার হক, জাকির হোসেন রাজু, ফৌজিয়া খান, আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সাইমন জাকারিয়া ও সুমনকুমার দাশ; ভারতের লেখকদের মধ্যে অমিয় দেব, শাঁওলী মিত্র, গঙ্গাপ্রসাদ বিমল, মন্দাক্রান্তা সেন, আশিস স্যানাল, শতরূপা সান্যাল ও অংশুমান ভৌমিক এবং নেপালের সাহিত্য সমালোচক মহেশ পদওয়ালের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে থিয়েটার আর্ট ইউনিট মঞ্চনাটক ‘আমিনা সুন্দরী’ মঞ্চায়ন করবে। সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে হাসন রাজা মঞ্চে আতাউর রহমান মিন্টু ও তাঁর দল গম্ভীরা পরিবেশন করবেন। এরপর ইফ্ফাত আরা দেওয়ান সেকালের বাংলা গান এবং খায়রুল আনাম শাকিল নজরুল সংগীত পরিবেশন করবেন। সবশেষে লোকসংগীত পরিবেশন করবেন লাবিক কামাল গৌরব, নবনীতা চৌধুরী ও বেবি দেওয়ান।


বর্ণালী চট্টোপাধ্যায়

উল্লেখ্য, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী এ উৎসব চলবে ৩ মার্চ পর্যন্ত। পুরো উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাককে। ইনডেক্স গ্রুপ নিবেদিত এ উৎসবের সহযোগিতায় রয়েছে ঢাকা ব্যাংক। সম্প্রচার সহযোগী চ্যানেল আই। প্রতিদিনই কয়েকটি মঞ্চে অনুষ্ঠান হবে। মূল অনুষ্ঠান হবে সৈয়দ মুজতবা আলী এবং হাসন রাজা মঞ্চে। এ ছাড়া প্রথম দিন থেকেই শাহ আবদুল করিম চত্বরে বাদ্যযন্ত্র ও সিলেট অঞ্চলের লোকগানের ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী; গুরুসদয় দত্ত চত্বরে কারুমেলা ও বেঙ্গল প্যাভিলিয়ন এবং কুশিয়ারা কলোনেডে স্থাপত্য প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। রাধারমণ দত্ত বেদিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সুবীর চৌধুরী আর্ট ক্যাম্প।