Press Release – Day 1

Press-Realease

সিলেটে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব শুরু

সিলেটে পর্দা উঠল মানবিক সাধনায় বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব। দশ দিনব্যাপী এ উৎসবের প্রথম দিনেই ছিল সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী নৃত্যের প্রদর্শনী। গতকাল বুধবার নগরের মাছিমপুর এলাকার আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে বেলা চারটায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ উৎসব শুরু হয়। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল রাত আটটায়। গান-নৃত্য-কথা আর হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে উৎসব জমে উঠে প্রথম দিনই।

বাম থেকে: সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ড. এ কে মোমেন, ফজলে হাসান আবেদ, আবুল মাল আবদুল মুহিত, আবুল খায়ের, আসাদুজ্জামান নূর ও জাকিয়া তাজীন।

আটটায় উদ্বোধনী পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয় হাসন রাজা মঞ্চে। এ সময় উদ্বোধকের বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ইনডেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিয়া তাজীন ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। সূচনা বক্তব্য দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি (প্রাক্তন) ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. এ কে মোমেন।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের

উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাককে। ইনডেক্স গ্রুপ নিবেদিত এ উৎসবের আয়োজক বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। সহযোগিতায় রয়েছে ঢাকা ব্যাংক। প্রতিদিনই কয়েকটি মঞ্চে এ অনুষ্ঠান হবে। মূল অনুষ্ঠান হবে সৈয়দ মুজতবা আলী এবং হাসন রাজা মঞ্চে। এ ছাড়া প্রথম দিন থেকেই শাহ আবদুল করিম চত্বরে বাদ্যযন্ত্র ও সিলেট অঞ্চলের লোকগানের ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী; গুরুসদয় দত্ত চত্বরে কারুমেলা ও বেঙ্গল প্যাভিলিয়ন এবং কুশিয়ারা কলোনেডে স্থাপত্য প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। রাধারমণ দত্ত বেদিতে অনুষ্ঠিত হবে সুবীর চৌধুরী আর্ট ক্যাম্প।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

উদ্বোধকের বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আমরা যাতে প্রকৃত মানুষ হিসাবে বাঁচতে পারি, এজন্য রুচির বিকাশের প্রয়োজন আছে। খাওয়াপরা জীবনে একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, সেটা জীবনকে সফল করে না। জীবনকে সফল করার জন্য বিনোদনের প্রয়োজন আছে, রুচির প্রয়োজন আছে। সেই কাজ করছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।’

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর

বক্তৃতায় আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘সংস্কৃতিচর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে আমরা দানবের দেশ হিসেবে দেখতে চাই না, চাই মানবের দেশ হিসেবে দেখতে।’ আবুল খায়ের বক্তৃতায় বলেন, ‘সংস্কৃতিচর্চা ও খেলাধূলা পারে তরুণ সমাজকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে। তাই এ দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আগামী দশ বছরে সারা দেশে দুইহাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারলে দেশ থেকে সব ধরনের নৈরাজ্য দূর করা সম্ভব।’

জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ সিলেটের শিল্পীরা

উদ্বোধনী পর্বের আগে বেলা চারটায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে ‘বর্ণ টুগেদার’, ‘টেলিভিশন’ ও ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে হাসন রাজা মঞ্চে মণিপুরি নাচ পরিবেশন করেন বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাব ও তাঁর দল। একইমঞ্চে এরপর দেশের গান পরিবেশন করে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ সিলেটের শিল্পীরা। উদ্বোধনী পর্বের পর রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত শিল্পী অদিতি মহসিন। সবেশেষে ছিল ফিউশন ফোক জলের গানের পরিবেশনা।

মণিপুরি নাচ পরিবেশন করেন বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাব ও তাঁর দল

দশ দিনব্যাপী এ উৎসবে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, খায়রুল আনাম শাকিল, চন্দনা মজুমদার, কুদ্দুস বয়াতীসহ বাংলাদেশের ৩৮৩ জন সংগীতশিল্পী-নৃত্যশিল্পী-চিত্রকর-নাট্যকুশলী-লেখক-কবি অংশগ্রহণ করবেন। সংগীত পরিবেশন করবেন ভারতীয় শিল্পী হৈমন্তী শুকলা, শ্রীকান্ত আচার্য্য, মনোময় ভট্টাচার্য্য, জয়তী চক্রবর্তী ও পার্বতী বাউল। বিশিষ্ট চিত্রকর রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, শহিদ কবির, রোকেয়া সুলতানা, জামাল আহমেদ, শিশির ভট্টাচার্য্য, তৈয়বা লিপিসহ ২৭ জন শিল্পী উৎসব চলাকালীন ‘সুবীর চৌধুরী আর্ট ক্যাম্পে’ অংশগ্রহণ করবেন। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, ইমদাদুল হক মিলন, শাহীন আখতার ও হরিশংকর জলদাস, প্রাবন্ধিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সনৎকুমার সাহা, মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও শামসুজ্জামান খান, কবি কায়সার হক, আনিসুল হক, রুবি রহমান, রবিউল হুসাইন, তারেক সুজাতসহ বাংলাদেশের মোট ৫০ জন কবি ও লেখক কালি ও কলম সাহিত্যসভায় অংশ নেবেন।

উপস্থিত সম্মানিত র্দশক

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার, প্রথিতযশা মঞ্চ-অভিনেতা ও নির্দেশক শাঁওলি মিত্রসহ ভারতের ২৩ জন প্রাবন্ধিক, কবি ও সাহিত্যিক এবং নেপালের ২ জন বিশিষ্ট লেখক সাহিত্যসভায় যোগ দেবেন। উৎসবে বাংলাদেশের ১০টি জেলার কারুশিল্প নিয়ে রয়েছে কারুমেলা। চলচ্চিত্র উৎসবে জাহিদুর রহিম অঞ্জনের ‘মেঘমল্লার’, মোরশেদুল ইসলামের ‘অনিল বাগচীর একদিন’, তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’, ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, রুবাইয়াৎ হোসেনের ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ ও ছোটদের ছবিসহ মোট ১৪টি ছায়াছবি নিয়মিতভাবে প্রদর্শিত হবে।

মণিপুরি নাচ পরিবেশন করেন বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাব ও তাঁর দল

চারটি নন্দিত মঞ্চনাটক সুবচনের ‘মহাজনের নাও’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘আমেনা সুন্দরী’, লোকনাট্যদলের ‘কঞ্জুস’ এবং মণিপুরী থিয়েটারের ‘কহে বীরাঙ্গনা’ উৎসবে মঞ্চস্থ হবে। উৎসব প্রাঙ্গণে উপস্থাপিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। রয়েছে বইমেলা। সিলেট জেলার ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর, ধামাইল, সুফি ও সাধনসংগীত, চা জনগোষ্ঠি, মণিপুরী ইত্যাদি আঞ্চলিক গান ও নাচ উৎসবের বিভিন্ন দিন মঞ্চে উপস্থাপন করা হবে। সিলেটের ঐতিহ্য ও উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে থাকবে স্থিরচিত্র প্রক্ষেপণ (ডিজিটাল ডিসপ্লে)। সিলেট শহরকে আরো পরিবেশ ও মানববান্ধব করার বিভিন্ন প্রয়াস ও চিন্তা সমন্বয় করে উপস্থাপন করা হবে স্থাপত্যবিষয়ক প্রদর্শনী।