About

crafts fair

বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, খায়রুল আনাম শাকিল, অদিতি মহসিন, চন্দনা মজুমদার,
জলের গান, কুদ্দুস বয়াতীসহ বাংলাদেশের ৩৮৩ জন সংগীতশিল্পী-নৃত্যশিল্পী-চিত্রকর-নাট্যকুশলী-লেখক-কবি
অংশগ্রহণ করবেন। সংগীত পরিবেশনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ভারতীয় শিল্পী হৈমন্তী শুকলা, শ্রীকান্ত
আচার্য্য, মনোময় ভট্টাচার্য্য, জয়তী চক্রবর্তী ও পার্বতী বাউলকে। বিশিষ্ট চিত্রকর রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম,
শহিদ কবির, রোকেয়া সুলতানা, জামাল আহমেদ, শিশির ভট্টাচার্য্য, তৈয়বা লিপিসহ ২৭ জন শিল্পী উৎসব
চলাকালীন ‘সুবীর চৌধুরী আর্ট ক্যাম্পে’ অংশগ্রহণ করবেন। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, ইমদাদুল
হক মিলন, শাহীন আখতার ও হরিশংকর জলদাস, প্রাবন্ধিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সনৎকুমার সাহা, মুহম্মদ
জাফর ইকবাল ও শামসুজ্জামান খান, কবি কায়সার হক, আনিসুল হক, রুবি রহমান, রবিউল হুসাইন, তারেক
সুজাতসহ বাংলাদেশের মোট ৫০ জন কবি ও লেখক কালি ও কলম সাহিত্যসভায় অংশ নেবেন। প্রখ্যাত
কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার, প্রথিতযশা মঞ্চ-অভিনেতা ও নির্দেশক শাঁওলি মিত্রসহ ভারতের ২৩ জন
প্রাবন্ধিক, কবি ও সাহিত্যিক এবং নেপালের ২ জন লেখক সাহিত্যসভায় যোগ দেবেন।

উৎসবে বাংলাদেশের ১০টি জেলার কারুশিল্প নিয়ে থাকবে কারুমেলা। চলচ্চিত্র উৎসবে জাহিদুর রহিম অঞ্জনের
‘মেঘমল্লার’, মোরশেদুল ইসলামের ‘অনিল বাগচীর একদিন’, তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’, ঋত্বিক ঘটকের
‘তিতাস একটি নদীর নাম’, মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’, নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’,
রুবাইয়াৎ হোসেনের ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ ও ছোটদের ছবিসহ মোট ১৪টি ছায়াছবি নিয়মিতভাবে প্রদর্শিত হবে।
চারটি নন্দিত মঞ্চনাটক – সুবচনের ‘মহাজনের নাও’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘আমেনা সুন্দরী’, লোকনাট্যদলের
‘কঞ্জুস’ এবং মণিপুরী থিয়েটারের ‘কহে বীরাঙ্গনা’ উৎসবে মঞ্চস্থ হবে। উৎসব প্রাঙ্গণে উপস্থাপিত হবে
বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। থাকবে বইমেলা। সিলেট জেলার ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর, ধামাইল,
সুফি সাধনসংগীত, মণিপুরী ইত্যাদি আঞ্চলিক গান ও নাচ উৎসবের বিভিন্ন দিন মঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।
সিলেটের ঐতিহ্য ও উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে থাকবে স্থিরচিত্র প্রক্ষেপণ (ডিজিটাল ডিসপ্লে)। সিলেট শহরকে
আরো পরিবেশ ও মানববান্ধব করার বিভিন্ন প্রয়াস ও চিন্তা সমন্বয় করে উপস্থাপন করা হবে স্থাপত্য প্রদর্শনী।
উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাককে।

সমাজ ও ঐতিহ্যচেতনায়, প্রজ্ঞায় ও সৃজনী-উৎকর্ষে অমর হয়ে আছেন সিলেট অঞ্চলের অগণিত মানুষ। এমন
কয়েকজন মহান ব্যক্তির নামানুসারে আমরা উৎসবস্থলের চত্বর ও মঞ্চগুলোর নামকরণ করেছি। আবুল মাল
আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে প্রধান মঞ্চটি অসামান্য মরমী কবি দেওয়ান হাছন রাজার নামে ‘হাছন
রাজা মঞ্চ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মাঠের প্রধান চত্বর যেখানে বাদ্যযন্ত্র ও সিলেট অঞ্চলের লোকগানের
ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী থাকবে, সেটি বাউল গানের কিংবদন্তি শিল্পী শাহ আবদুল করিমের নামানুসারে নামকরণ
করা হয়েছে। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা সৈয়দ
মুজতবা আলী স্মরণে জিমনেসিয়ামের ভেতরে সাহিত্যসভা, মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য যে মঞ্চটি থাকছে
তার নাম রাখা হয়েছে ‘সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চ’। কারুশিল্প প্রদর্শনীর চত্বরটি লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণের অগ্রপুরুষ
ও ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আইসিএস গুরুসদয় দত্তের নামে নামকরণ করা হয়েছে। স্থাপত্য প্রদর্শনী ও
স্থিরচিত্র প্রক্ষেপণের জন্য নির্মিত তোরণটিকে কুশিয়ারা কলোনেড নামে অভিহিত করা হয়েছে। আর্ট ক্যাম্পের
বেদীটিকে ‘রাধারমণ দত্ত বেদী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সিলেট অঞ্চলের প্রজ্ঞাবান মানুষের তালিকা প্রায় অনিঃশেষ। আমরা চেষ্টা করব উৎসবের নানা আয়োজনের মধ্য
দিয়ে এই মনীষীদের পরিচয় তুলে ধরতে ও তাঁদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে। আমরা বিশ্বাস করি, বিষয়বৈচিত্র্যে ও
প্রকরণে এই উৎসবটি বাংলাদেশে সংস্কৃতিচর্চায় নতুন মাত্রা সঞ্চার করবে।